এডোয়ার্ড সায়িদের কীর্তি

প্রাসঙ্গিক রচনা

সলিমুল্লাহ খান

এডোয়ার্ড সায়িদ (১ নভেম্বর ১৯৩৫-২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৩)

(এডোয়ার্ড সায়িদ; ১ নভেম্বর ১৯৩৫-২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৩)

(এডোয়ার্ড সায়িদ; ১ নভেম্বর ১৯৩৫-২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৩)

এডোয়ার্ড সায়িদ গত হইয়াছেন ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। দেখিতে দেখিতে এগার বছর হইল। তাঁহার মৃত্যুকে অকালমৃত্যুই বলিতে হইবে। ১৯৯১ সালে তাঁহার কর্কটরোগ ধরা পড়িয়াছিল। সৌভাগ্যের মধ্যে, তাহার পরও তিনি বারো বছর বাঁচিয়া ছিলেন।

আমাদের কালে তাঁহার খ্যাতি গড়িয়া উঠিয়াছিল ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত ‘ওরিয়েন্টালিজম’ ওরফে ‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ প্রবন্ধের সুবাদে। ২০০৩ সালের মে মাসে এয়ুরোপের হেগ শহরে দেওয়া এক বক্তৃতাযোগে এডোয়ার্ড সায়িদ নিজেই জানাইয়াছিলেন ‘ওরিয়েন্টালিজম’ বইটির অনুবাদ সেদিন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৬ ভাষায় হইয়াছে। এই তথ্য সামান্য। বিশেষ সত্য এই যে এডোয়ার্ড সায়িদের জীবনকালে ও মৃত্যুর পরে সংগৃহীত প্রবন্ধসকল একত্রিত করিয়া ২০/২১ বই প্রকাশ পাইয়াছে, কিন্তু তাহাদের সকলের মধ্যে ‘ওরিয়েন্টালিজম’ বইটির প্রতিধ্বনি শোনা যায়। এই বইকে সায়ীদের জীবনের ধুয়া বলিলে বেশি বলা হইবে না।
‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ এডোয়ার্ড সায়িদের জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। কিন্তু- মজার কথা- এডোয়ার্ড নিজে প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ী বা ওরিয়েন্টালিস্ট বলিয়া পরিগণিত ছিলেন না। যদি কিছু বলা যায় তো বলিতে হইবে তিনি ছিলেন প্রতীচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ী বা অক্সিডেন্টালিস্ট। তাঁহার বিদ্যা সীমিত ছিল যাহাকে বলে ইংরেজি সাহিত্য তাহার মধ্যে। এডোয়ার্ডের মাতৃভাষা আরবি, ইংরেজি তিনি ইংরেজদের চেয়েও ভাল বলিতেন আর ফরাশি, জার্মানি ও ইতালিয়া প্রভৃতি ভাষায়ও তাঁহার অধিকার ছিল। তিনি আরো আরো ভাষা জানিয়া থাকিবেন। তাহার খবর আমার জানা নাই।
খোদ ‘প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ’ বা ব্যবসায়ীরা এডোয়ার্ড সায়িদকে অনধিকার চর্চাকারী বা পরধনলোভী সন্ত্রাসবাদী মনে করিয়া উড়াইয়া দিয়াছিলেন। কিন্তু সারা দুনিয়ায় ‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ বহিটির জনপ্রিয়তা ছড়াইয়া পড়ায় সনাতন প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ীরা মুখ সামলাইয়া লইতে বাধ্য হইয়াছেন। তবু ইহার নিকুচি থামিয়া নাই। প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ী বার্নাড লুইস আর নৃবিজ্ঞান ব্যবসায়ী জেমস ক্লিফোর্ড হইতে সাহিত্য বিশারদ এয়জাজ আহমদ কি মধ্যপ্রাচ্য অধ্যাপক ফ্রেড হালিডে কেহই ইহাকে ক্ষমা করিয়া কথা বলেন নাই।
কি আছে এডোয়ার্ড সায়িদের বহিতে? এই বইয়ের একটি উপ-শিরোনাম আছে। তাহাতে বিষয়বস্তু কিছু পরিষ্কার হইতে পারে। বইটার বিষয়- এডোয়ার্ড লিখিয়াছেন- প্রাচ্যদেশ বা ওরিয়েন্ট বিষয়ে প্রতীচ্যের বা পশ্চিমের ধ্যানধারণা। সত্যই তাই। প্রশ্ন হইতেছে ‘প্রাচ্যদেশ’ কি বস্তু, আর তাহা প্রতীচ্যদেশ হইতে ভিন্ন কেন। সায়িদ এখানে প্রতিবাদ করিতেছেন- বলিতেছেন এই ভেদ কৃত্রিম। এই ভেদ টিকিবে না। জগত জুড়িয়া এক নির্মল জাতি আছে- তাহার নাম মানুষ জাতি। অন্য সকল ভেদ মলিন।

এডোয়ার্ড সায়িদ প্রথমেই বলিয়াছেন প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য এই ধারণাগুলি স্বাভাবিক বা চিরন্তন সত্য নহে- এইগুলি স্থান-কাল-পাত্রনির্ভর বা ঐতিহাসিক বিশ্বাস বিশেষ। অথচ এয়ুরোপ- মানে ওলন্দাজ, ইংরেজ, ফরাশি প্রভৃতি- এবং আমেরিকার প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদরা মনে করেন প্রাচ্য এবং প্রতীচ্য বলিতে যাহা বোঝায় তাহা ভৌগোলিক পূর্ব ও পশ্চিম প্রভৃতি প্রত্যয়ের মতই প্রাকৃতিক সত্য। তাহাতে কোন নড়চড় নাই। অথচ সায়িদ বলেন, এই ধারণা ধ্রুব নহে, চলনসই। নির্বিশেষ নহে, বিশেষ। অর্থাৎ ভবিষ্যতে ইহা রদ হইতে পারে।
শুদ্ধ তাহাই নহে- প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ীরা ইহাও ধরিয়া লয়েন যে প্রাচ্য মানেই হীন, মানে কিছু পরিমাণে প্রতীচ্যেতর তথা মানবেতর। কেননা মানবের আদর্শ বা মানবতন্ত্র প্রতীচ্যেরই কীর্তি বটে। এডোয়ার্ড সায়িদ দেখাইয়াছেন পণ্ডিতদের এই ধ্যানধারণা অকারণে তৈয়ার হয় নাই। ইহার অনুষঙ্গ আছে। সেই অনুষঙ্গের নাম ক্ষমতা। যখন হইতে প্রতীচ্য বলিয়া অভিহিত এলাকার কিছু কিছু দেশ পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার দেশে দেশে অধিকার প্রতিষ্ঠা করিতে তৎপর হইয়াছে সেই সময় হইতে এই ধারণাও গড়িয়া উঠিয়াছে যে অধিকারভুক্ত এলাকার অধিবাসীরা এয়ুরোপের অধিবাসীদের তুলনায় কম সভ্য বা অসভ্য। এই কম সভ্যদেরও আবার দুই দলে ভাগ করা হইয়াছিল। দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার প্রাচীন অধিবাসীদের- এবং আফ্রিকা মহাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের কোন কোন মানবগোষ্ঠীকেও- এয়ুরোপিয়া বিজেতারা ‘অসভ্য’ অর্থে ‘বন্য’ বলিয়া মার্কা মারিয়া দিলেন। আর এশিয়া মহাদেশ ও আফ্রিকার বড় বড় দেশের অধিবাসীদের তাহারা বিশেষণ দিলেন ‘বর্বর’। সায়িদ বলিতেছেন, এই ধ্যানধারণাগুলি চিরন্তন সত্য নহে। এইগুলি এয়ুরোপিয়া সামরিক বিজয় ও বিদ্যাবুদ্ধি অর্থাৎ শক্তির দম্ভ প্রকাশ করে মাত্র।
এডোয়ার্ড সায়িদের বইটি জনপ্রিয় হইয়াছে এই সহজ সত্যটি সহজে প্রকাশ করিবার দৌলতে। নিজের বিদ্যার ক্ষেত্র হিশাবে তিনি বাছিয়া লইয়াছিলেন পশ্চিম এশিয়া মহাদেশে- যাহাকে আমরা ‘মধ্যপ্রাচ্য’ বলিয়া জানি- এয়ুরোপের বিজয়াভিযান ও আনুষঙ্গিক জ্ঞানবিজ্ঞানের ইতিহাস। বিশেষ করিয়া ১৭৯৮ সালে মিসরে পরিচালিত ফরাশি রাষ্ট্রনায়ক নাপোলেয়নের বিজয়াভিযান হইতে ১৯৭৫ সালে লেবাননের গৃহযুদ্ধে ইসরায়েলের মদদ পর্যন্ত ‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ বইয়ের আওতায় আসিয়াছে। এডোয়ার্ডের উদাহরণ অনুসরণ করিয়া দুনিয়ার আর পাঁচ মহাদেশে এয়ুরোপিয়া উপনিবেশ ব্যবসায়ীরা কি কি করিয়াছেন তাহার আলোচনাও শুরু হইয়াছে।
সায়িদ নিজেই বলিয়াছেন এই বইটি তিনি লিখিতেই পারিতেন না যদি না তিনি নিজের জীবন দিয়া অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথর ঘষিয়া ইহার মর্ম উপলব্ধি করিতেন। সায়িদের বয়স যখন নিতান্ত বারো কি তেরো বছর তখন হইতেই তিনি দেশছাড়া। তিনি ফিলিস্তিনি বলিয়া পরদেশলোভী এয়ুরোপিয়া বিদ্যার অন্ধকার দিকটাও দেখিতে পাইয়াছেন। কিন্তু ‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ বইটাতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস লেখা হয় নাই- লেখা হইয়াছে এয়ুরোপ ও আমেরিকার বিশেষ এক জ্ঞানকাণ্ডের ইতিহাস। এয়ুরোপিয়া জ্ঞানকাণ্ডের কাণ্ডারীরা ‘প্রাচ্য’ বলিতে কেবল ‘এসলাম’ বুঝিয়াছেন আর এসলাম বলিতে ধরিয়া লইয়াছেন ‘বর্বরতা’। সায়ীদ ইহার প্রতিবাদ করিয়াছেন। তিনি ‘এসলাম’ ব্যবসায় শুরু করেন নাই। তাঁহার লক্ষ্য ন্যায়বিচার।

এডোয়ার্ড সায়িদ অকপটে স্বীকার করিয়াছেন জ্ঞানকাণ্ড বা ডিসকোর্সের বিচার কি করিয়া করিতে হয় তাহা তিনি শিখিয়াছেন প্রতীচ্য ব্যবসায়ীদের বহি পড়িয়াই। বিশেষ করিয়া ফরাশি দর্শন ব্যবসায়ী মিশেল ফুকোর বিশ্লেষণ পাঠ করিয়া তিনি প্রেরণা লাভ করিয়াছেন। শুদ্ধ ফুকো নহেন, আঠারো শতকের ইতালিয়া মনীষী- নাপোলি শহরের অধিবাসী- জ্যোমবাতিস্তা বিকোও তাঁহার বড় গুরু আছেন। পশ্চিমা জগতের ‘জ্ঞানকাণ্ড’ বলিতে ফুকো যাহা বুঝিয়াছেন তাহাই খানিক বাড়াইয়া লইয়াছেন সায়িদ। ফুকোর মতে এই দুনিয়ায় ক্ষমতা বা দুনিয়াদারির সহিত জ্ঞানগরিমা বা সত্যসাধনার সম্পর্ক নিবিড়। জ্ঞানগরিমা জিনিশটা মোটেও অপার্থিব পদার্থ নহে। সায়িদ দেখাইয়াছেন এয়ুরোপ আমেরিকার পণ্ডিতসমাজ বিশেষ করিয়া প্রাচ্যের ভাষা, ধর্ম ও ইতিহাস বিশারদরা বিশুদ্ধ কৌতুহল হইতে নহে, পাশ্চাত্য জাতির শ্রেষ্ঠতা প্রমাণ করিবার খাতিরেই প্রাচ্যবিদ্যায় মনোনিবেশ করিয়াছিলেন। তাঁহারা ক্ষমতার সেবায় স্ব স্ব সাধনা উৎসর্গ করিয়াছেন। আজ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে এয়ুরোপিয়া ও মার্কিন জাতিগুলির নীতি এই প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়ীদের অর্জিত জ্ঞানকাণ্ডের উপর দাঁড়াইয়া আছে।
তো এই অবস্থা হইতে ছাড়া পাইবার পথ কি? আগেই বলিয়াছি সায়িদ নিজে প্রতীচ্যবিদ্যায় পণ্ডিত। তিনি মোটেও প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ নহেন। তবে নিজেকে তিনি পাশ্চাত্য জগত হইতে উদ্ভূত সাম্রাজ্যের বা প্রাচ্যবিদ্যার ভুক্তভোগী নিপীড়িতদের মধ্যে বলিয়া জানেন। তিনি জানেন বিগত পাঁচ শত বছর ধরিয়া এয়ুরোপ মহাদেশে সংখ্যালঘু হিশাবে নিগৃহীত এয়াহুদি জাতি। বিগত দুই মহাযুদ্ধে তাহারা সীমাহীন নিগ্রহ, নিবর্তন ও গণহত্যার শিকার হইয়াছেন। অথচ এয়ুরোপিয়া রাষ্ট্রশক্তির পাপের সন্তান খোদ এই নির্যাতিত মানবগোষ্ঠীই ফিলিস্তিনে আসিয়া আরেক মানবগোষ্ঠীকে ঘরছাড়া, দেশছাড়া করিয়াছে। ইহাকেই বলে ইতিহাসের ব্যাজ বা ব্যঙ্গ।
এডোয়ার্ড সায়িদের পুরা নাম এডোয়ার্ড ওয়াদি সায়িদ। তিনি একাধারে আরব অর্থাৎ ফিলিস্তিনি, অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এবং আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি জন্মিয়াছিলেন ইংরেজ অধিকৃত ফিলিস্তিনে, শহর জেরুজালেমে। আর মারা গিয়াছেন মার্কিন দেশের মহানগর নতুন ইয়র্কে। তিনি বি.এ. (১৯৫৭) পাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় হইতে। এম.এ. (১৯৬০) আর পিএইচ. ডি. (১৯৬৪) শেষ করিয়াছেন হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হইতে। ১৯৬৩ হইতে ২০০৩ পর্যন্ত- অর্থাৎ আমৃত্যু- মোট ৪০ বছর তিনি নতুন ইয়র্ক নগরীর অন্তপাতী কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। এইগুলি মার্কিন দেশের এলিট বা বড়লোকের প্রতিষ্ঠান।

সায়িদ নিজে একাধিক জায়গায় উল্লেখ করিয়াছেন, প্রথম জীবনে তিনি রাজনীতিতে বিশেষ আগ্রহ পোষণ করিতেন না। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের হাতে আরব রাষ্ট্রগুলির পরাজয়ের পর হইতে মাত্র তিনি রাজনীতিতে মাথা ঘামাইতে শুরু করেন। আর এই মাথার ঘাম পায়ে ঝরাইয়াই তিনি- অন্যান্যের মধ্যে- ‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ লিখিয়াছিলেন। বলা হয়ত নিষ্প্রয়োজন নহে ১৯৭৭ সালে- এই সালেই তিনি ‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ লেখায় হাত দিয়াছিলেন- তিনি ফিলিস্তিন জাতীয় সংসদ বা প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য পদ গ্রহণ করেন। এই পদ হইতে তিনি সরিয়া দাঁড়ান ১৯৯১ সালে। কেননা ঐ বছর ফিলিস্তিনি নেতারা ইসরায়েলের সহিত যে ধরনের সন্ধি স্থাপন করিলেন- যাহা ‘অসলে শান্তি প্রক্রিয়া’ নামে পরিচিত- তাহার সহিত তিনি একমত পোষণ করেন নাই। আর তিনি যে ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন তাহা আজ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিতও হয় নাই। ফিলিস্তিন যেমন রাষ্ট্র হয় নাই- শান্তি প্রক্রিয়াও তেমন শান্তি প্রক্রিয়া হয় নাই।
এডোয়ার্ড সায়িদ বলিয়াছিলেন, শতখণ্ডে বিভক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বসতি বা বান্টুস্থান লইয়া কোন কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হইবে না। অথচ- মজার বিষয়- এডোয়ার্ড সায়িদ ১৯৭০ সালের দশক হইতে বলিয়া আসিতেছেন ফিলিস্তিনের জাতীয় অধিকার অর্থাৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না করিয়াও পশ্চিম এশিয়ায় কোনদিন শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাইবে না। আর যতই অন্যায়ের ফসল হউক না কেন- ইতিহাসের সাক্ষী নির্মম সত্যকে মানিতেই হইবে। ইসরায়েল রাষ্ট্র সেই সত্য। এই সত্য প্রতীচ্যের সত্য। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পরষ্পরকে স্বীকার করিয়া লইলে এক প্রকারের না এক প্রকারের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হইবে।
একথা সত্য যে সায়িদ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেখিয়া যাইতে পারেন নাই। কেননা ‘প্রাচ্যবিদ্যা ব্যবসায়’ আজও রাজত্ব করিতেছে। ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকার করিয়াছেন ১৯৮৮ সালে। তারপর তাহারা দুই দুইবার ইন্তিফাদা বা শান্তিপূর্ণ বিদ্রোহ করিয়াছেন। কিন্তু ইসরায়েল আজও তাহাদিগকে স্বীকার করিয়া লয় নাই। কবুল করিতে হইবে ফিলিস্তিনের সংগ্রাম আজো শেষ হয় নাই।

(লেখাটি প্রথম প্রকাশ হয় বাংলা ট্রিবিউন অনলাইনে। প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৪)

© 2016. www.oncinemabd.com | Editor & Founder Bidhan Rebeiro | oncinemabd@gmail.com | C: www.bidhanrebeiro.wordpress.com